ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী তালাক দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে দাঁড়িয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী নারী শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলা গ্রামের মো. সৈবুর রহমানের স্ত্রী। তাঁদের ৩০ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, তাঁর স্বামী বিএনপির কট্টর সমর্থক। ভোটের দিন সকালে স্বামী তাঁকে ইশারায় সতর্ক করলেও তিনি নিজের পছন্দমতো দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াত প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীদের প্ররোচনায় তাঁর স্বামী রাগের মাথায় তাঁকে তালাক দেন।
ভুক্তভোগীর ১৯ বছর বয়সী ছেলে জানান, তালাকের পর তাঁর মা বর্তমানে ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পর তাঁর বাবা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং তাঁর সাথে যোগাযোগ করে অনুতপ্ত হয়েছেন। তবে দীর্ঘ ৩০ বছরের সম্পর্কের এমন করুণ পরিণতিতে তাঁর মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং পুনরায় ওই সংসারে ফিরতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
অভিযুক্ত স্বামী সৈবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি মুহূর্তের উত্তেজনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যা এখন বড় ভুলে পরিণত হয়েছে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি এখন স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের কারণে তালাকের এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শিবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। একে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিচ্ছেদ ঘটানো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। অন্যদিকে, স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, দাঁড়িয়ে পাল্লায় ভোট দেওয়ার কারণে যদি কোনো পরিবার এমন সংকটে পড়ে, তবে দলগতভাবে তাঁরা ওই নারীর পাশে দাঁড়াবেন।







