রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে দক্ষিণ আমেরিকার অত্যন্ত বিষাক্ত এক প্রজাতির ব্যাঙের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবেরিয়ার কারাগারে নাভালনির রহস্যময় মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক যৌথ বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া ওই বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, নাভালনির শরীরের নমুনা বিশ্লেষণ করে সেখানে ‘এপিবাটিডিন’ (Epibatidine) নামক একটি প্রাণঘাতী উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি মূলত ইকুয়েডরের রেইনফরেস্টে পাওয়া ‘ডার্ট ফ্রগ’ বা বিষাক্ত ব্যাঙের শরীর থেকে নিঃসৃত এক ধরনের শক্তিশালী নিউরোটক্সিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিবাটিডিন নামক এই বিষটি ব্যথানাশক মরফিনের চেয়েও ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি শরীরে প্রবেশ করলে দ্রুত শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং হৃদস্পন্দন কমিয়ে দেয়, যার ফলে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবি, রাশিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশে এই বিষ পাওয়া অসম্ভব এবং এটি কেবল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা বা আমদানির মাধ্যমেই প্রয়োগ করা সম্ভব।
বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, “কারাবন্দি অবস্থায় নাভালনির ওপর এই বিষ প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় সামর্থ্য, সুযোগ এবং উদ্দেশ্য—সবই কেবল রুশ সরকারের ছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এপিবাটিডিন দেহে থাকার কোনো স্বাভাবিক বা নির্দোষ ব্যাখ্যা রাশিয়ার কাছে নেই। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ক্রেমলিন কতটা ভয় পায়।
নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আজ তা বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।” তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেছেন।
এদিকে, এই অভিযোগকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেমলিন এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল বৈশ্বিক রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা (OPCW)-এর কাছে জমা দিয়েছে এবং একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।







