সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিম সরদার এবং একই ইউনিয়নের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের খন্দকার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান জয়লাভ করেন। এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গজাইল বাজারে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত সমর্থিত একদল কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা লুট করে।
ভুক্তভোগী যুবদল নেতা আব্দুল লতিফ দাবি করেছেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে’ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতা আব্দুল আলিম সরদার। গ্রেপ্তারের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোনো হামলা করেনি, বরং বিএনপির লোকজনই আগে তাঁদের অফিসে হামলা চালিয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম জানান, যুবদল নেতার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







