ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় জামায়াত ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়ন অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নে দুর্বৃত্তদের এই তাণ্ডবে দুই নারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা জামায়াত কর্মী হারুন অর রশিদ ও তাঁর ভাই কামাল জমাদ্দারের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং হারুনের একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে কামাল জমাদ্দারের স্ত্রী রানু বেগম ও মেয়ে সাবিনা আহত হন। এ ছাড়া ইউপি সদস্য মো. রিপন ও মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।
বসতবাড়ির পাশাপাশি পাটিখালঘাটা বাজারের একটি ওষুধের দোকান ও চায়ের দোকানেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনায় জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলাম দুলাল বাদী হয়ে পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কালামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে কাঁঠালিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফুয়াদ জমাদ্দার ও ছাত্রদল নেতা জনি হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালালুর রহমান আকন্দ হামলার সাথে দলীয় সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং এটি তৃতীয় কোনো পক্ষ বা দুর্বৃত্তদের কাজ হতে পারে। তিনি গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান জানান, মামলার ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







