ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হতে যাচ্ছেন পরবর্তী বিরোধীদলীয় নেতা। দলীয় ও জোটগত নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দলের প্রধান হিসেবে তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় এই আসন অলঙ্কৃত করবেন।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় উপনেতা পদের জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে জামায়াতের ভেতর থেকেও তিনজন শীর্ষ নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে যেকোনো সম্মানজনক সংসদীয় পদে দেখা যেতে পারে।
ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য আলোচনায় আছেন সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় ব্যারিস্টার মোমেনের এই পদে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে সূত্র জানিয়েছে।
জোটের শরিক দল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিরোধীদলের হুইপ করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। মূলত ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এবং শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই ভারসাম্যপূর্ণ পদ বণ্টনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ এসব পদ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের পরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা জানানো হবে।







