ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে আটক করেছে দেশটির আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে জ্বালানি খাতে একটি বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (ন্যাবু) এক বিবৃতিতে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ন্যাবুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘মিডাস মামলা’ নামে পরিচিত একটি বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক এই মন্ত্রীকে আটক করা হয়। মূলত ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নিয়ে গত বছর যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন গেরমান গালুশচেঙ্কো। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১০ কোটি ডলার উপার্জন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। এই কেলেঙ্কারির জেরে প্রেসিডেন্টের অনুরোধে দায়িত্ব পালনরত এবং সাবেক উভয় জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। যদিও শুরু থেকেই তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এনারগোয়াটম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যেটি ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করে। অভিযোগ রয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকেই বড় একটি অংশ তছরুপ করা হয়েছে।
ইউক্রেন সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধের সময়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাটিকে কঠোর অপরাধ হিসেবে দেখছে দেশটির বিচার বিভাগ।
