ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল বদল, জোট গঠন এবং দল বিলুপ্তির এক নাটকীয় অধ্যায় দেখা গেছে। ২০২৫ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোটবদ্ধ হলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিপাকে পড়ে ছোট দলগুলো। ফলে অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় অনেক নেতা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বা পদত্যাগ করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে বিএনপির পতাকাতলে আশ্রয় নেন। তবে দলবদলের এই কৌশলে সবার কপাল খোলেনি।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে না পারা নেতাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের কাছে পরাজিত হয়েছেন। একইভাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ আসনে লড়লেও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান।
তরুণ প্রজন্মের নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান দল ছেড়ে বিএনপিতে নাম লেখালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। ঝিনাইদহ-৪ আসনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিটকে পড়েন। নড়াইল-২ আসনে এনপিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসা ফরিদুজ্জামান ফরহাদও জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরে তাঁর টানা তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন।
যশোর-৫ আসনেও দলবদলের রাজনীতি সফল হয়নি। নিবন্ধনের জটিলতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা রশীদ বিন ওয়াক্কাস ধানের শীষ নিয়ে লড়েছিলেন। তবে ত্রিমুখী লড়াইয়ে তিনি জামায়াতের গাজী এনামুল হকের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন।
তবে এই দলবদলের খেলায় সবাই যে ব্যর্থ হয়েছেন তা নয়। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে আসা শাহাদাত হোসেন সেলিম বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ১ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাজিমাত করেছেন। এনডিএম বিলুপ্ত করে ধানের শীষ নেওয়া ববি হাজ্জাজও ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সংসদে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দলগুলোর অস্তিত্ব বিলীন করে বড় দলে যোগদানের এই প্রবণতা সংসদীয় গণতন্ত্রে দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। জয়ী প্রার্থীরা সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলেও পরাজিতদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে।







