বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায় রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান–এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেনের নামই তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। গত ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া সাহাবুদ্দিন তখন বলেছিলেন, নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাওয়াই তাঁর কর্তব্য।
তিনি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর—সে হিসেবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকলেও তিনি পুরো সময় দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগে থেকেও আলোচনায় দেখা গেছে। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অতীতে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে জ্বালানিমন্ত্রী ও ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে নীরব থাকেন এবং রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলেন—যা রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় থাকলেও দলীয় পর্যায়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখার কথাও শোনা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার ঘোষণা হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।
