সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও শ্রেষ্ঠত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর উধুনিয়া ইউনিয়ন আমিরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গজাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর নিয়ে উধুনিয়া ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, বহরটি গজাইল বাজারে পৌঁছানোর পর উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ভেতরে ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় বাধা দিতে গেলে আব্দুল আলিমের স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের নারী সদস্যদের মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে জেরিন খাতুন, মারুফা খাতুন ও জামেনা খাতুনসহ পাঁচজনকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে দ্রুত বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে। এতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব নিক্সন কুমার আমিনসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা নিক্সন কুমার দাবি করেছেন, তাদের ওপর আগে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়, কিন্তু কোনো বাড়িতে হামলা করা হয়নি।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি সাকিউল আজম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী উত্তেজনা থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মাত্র ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল ঘোষণা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
