ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি জোটের সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াত সূত্র জানায়, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় অনুযায়ী নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাঠামো। বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত মনে করছে, সংসদের পাশাপাশি এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখতে সব বড় দলের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগেই জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই শপথ পড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই। বিএনপি এই দাবিতে অনড় থাকায় জামায়াত ও তাদের শরিক ১১টি দল পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে চলে, তবে নির্বাচনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে বড় ধরনের স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে বিএনপি ২১২টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে, সেখানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোটের ৬৮ জন সংসদ সদস্যের শপথ বয়কটের ঘোষণা সংসদের কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
বর্তমানে সংসদ ভবন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের এই ঘোষণার পর বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আজ বিকালের মধ্যেই এই সংকটের সমাধান না হলে নবনির্বাচিত সংসদীয় কার্যক্রমের প্রথম দিনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
