জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের সেই পরিচিত ‘ঐতিহাসিক’ জার্সি পরেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হাজির হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই জার্সিটি হাসনাতের অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রায়ই এই নির্দিষ্ট জার্সিটি পরে সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যেত। দেবিদ্বার (কুমিল্লা-৪) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ছিল যে, সংসদের মতো আনুষ্ঠানিক জায়গাতেও তিনি এই স্মৃতিবাহী পোশাকটি পরবেন কি না। আজ সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে জার্সি পরেই তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই পোশাক নির্বাচন কেবল একটি ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সংসদের ভেতরে তুলে ধরার একটি প্রতীকী প্রয়াস। তার এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপ্লবের স্মৃতিকে আবারও সতেজ করে তুলেছে। উল্লেখ্য যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জয়লাভ করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে আজ দিনভর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদচারণায় মুখর ছিল। একদিকে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন এবং অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের সংসদে অংশগ্রহণ দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল।
