ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এক কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন ও অধিকার রক্ষা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং ‘জুলাই সনদ’ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে তারা আবারও দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দেবেন। ২০২৪ সালের বিপ্লবে প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ কর্মসূচি যেভাবে প্রভাব ফেলেছিল, সেই একই পথে হাঁটার হুমকি এখন নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসীদের এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপি সংসদ সদস্যদের একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত। নবনির্বাচিত এমপিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বিএনপি দাবি করেছে, বর্তমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে প্রবাসীরা ও মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা এই পদক্ষেপকে জুলাই বিপ্লবের সংস্কার আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনকারী প্রবাসীদের বক্তব্য হলো, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্ষমতারোহণের জন্য জীবন বা অর্থ বাজি রাখেননি। তাদের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠন, যা জুলাই সনদে বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। আজ সংসদের প্রথম দিনেই সেই সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করায় প্রবাসীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের চেয়ে ক্ষমতার হিসেবকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে তারা অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান।
অন্যদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আজ সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গীদের মধ্যেও অস্থিরতা দেখা দেয়। বিএনপি শপথ না নেওয়ায় শুরুতে তারা সংসদ বর্জনের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত দুপুরে জামায়াতের ৬৮ জন সংসদ সদস্য এমপি এবং সংস্কার পরিষদ—উভয় পদেই শপথ গ্রহণ করেছেন। জামায়াতের এই দ্বৈত শপথ গ্রহণকে অনেকেই প্রবাসীদের সংস্কারের দাবির প্রতি সংহতি হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের এই হুমকি নবগঠিত বিএনপি সরকারকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি দ্রুত প্রবাসীদের আশ্বস্ত করতে না পারে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো রোডম্যাপ না দেখায়, তবে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই খাতটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।







