শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর এখন জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই পৃথক দুটি মামলা করেছে বিএনপি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে। সেখানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। জামায়াতের দাবি, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়ে রেজাউল করিমকে পিটিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন। এই ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি প্রার্থীসহ ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন মোড় নিয়েছে স্থানীয় রাজনীতি। সংঘর্ষের সময় নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই পাল্টা দুটি মামলা দায়ের করেছে বিএনপি। মামলায় জামায়াতের ২৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জামায়াত শিবির ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, তাদের দলের একজন সক্রিয় নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা একে ‘পতিত ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, ক্ষমতা হাতে পেয়ে মজলুমের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে হত্যাকারীদের উপস্থিতি স্পষ্ট থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নিহতের স্বজন ও দলীয় কর্মীদের আসামি করা চরম অবিচার।
বর্তমানে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হত্যা মামলায় বিএনপির প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।







