লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে প্রাণ হারালেন আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক মৎস্য খামারি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আব্বাস উদ্দিন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আগে রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ‘জিতু এগ্রো’ মৎস্য খামারে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা খামারের ভেতরে থাকা ঘরে বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দিলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারলেও আব্বাস উদ্দিন আটকা পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
নিহত আব্বাসের বড় ছেলে এলাহি প্রিন্স দাবি করেছেন, তাঁর বাবা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর মা সুলতানা রাজিয়া লাকিও স্থানীয় মহিলা দলের সভানেত্রী। খামারের বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা তাঁদের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানিয়েছেন, আব্বাস উদ্দিন এবং তাঁর ছেলে প্রিন্স নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ভোটের আগের দিন পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দলটির পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনের বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
