ফেসবুকে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের নির্বাচিত সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জকসুর এজিএস মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হল সংসদের একজন নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিকে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতন করেছে, যা স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতা হরণের শামিল এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।
জকসুর মতে, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্তি ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। কিন্তু নিজ ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এবং শিক্ষকের উপস্থিতিতেই একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপদস্থ করার ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত। একে ‘নব্য-ফ্যাসিবাদী’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে জকসু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, ক্যাম্পাসে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর কর্তৃত্ববাদী, অবমাননাকর বা শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের ভাষা বন্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে।
জকসু সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।







