নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আলোচিত গণধর্ষণ ও হামলার ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) নিজে বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে হাতিয়া থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর বসতঘরে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে। এরপর স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান ওই নারীকে গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাদী আরও উল্লেখ করেন, পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ‘শাপলা কলি’র অন্য এক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করে এবং সেখানেও ভাঙচুর চালায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগী নারীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, গাইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড ইতিমধ্যে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।







