নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিমের সরাসরি তিন নিকটাত্মীয়ের স্থান পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শেখ সেলিম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আত্মীয়দের এই পদায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠছে।
বিএনপির এই নতুন মন্ত্রিসভায় শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ববি হাজ্জাজ শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফাহিমের শ্যালক। একইভাবে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যিনি সম্পর্কে শেখ সেলিমের ছোট ছেলে শেখ নাঈমের শ্বশুর।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বাইরে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, যিনি সম্পর্কে শেখ সেলিমের ভাগ্নে। মূলত আওয়ামী লীগের ‘শেখ পরিবার’-এর সাথে সরাসরি বৈবাহিক ও পারিবারিক সম্পর্ক থাকা এসব ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া এবং মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।
সমালোচকদের মতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের প্রভাবশালী পুরুষ শেখ সেলিমের আত্মীয়রা বিএনপির সরকারের কেন্দ্রে স্থান পাওয়ায় ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ বা ‘পারিবারিক বলয়ের’ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কেন ‘লীগার’ রাজনৈতিক আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হলো, তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে যোগ্যতা ও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—আদতে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও পর্দার আড়ালের পারিবারিক ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলো একই রয়ে যাচ্ছে কি না।







