নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা সহায়তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে এই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সিপিডির তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনতে বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই ব্যয় দেশের মোট জিডিপির প্রায় ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশের সমান। যদিও এটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখবে, তবে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি হওয়া উচিত স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। তিনি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর এই উদ্যোগ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি প্রকৃত বঞ্চিতদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।
সিপিডির মূল প্রবন্ধে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে জিডিপির আকার ৪৬২ বিলিয়ন ডলার। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ডলারের ভিত্তিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন।
রাজস্ব আদায় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের জন্য কর-জিডিপি অনুপাতের লক্ষ্যমাত্রা ৮.৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। লক্ষ্য পূরণে প্রতি বছর ০.৯ শতাংশ হারে রাজস্ব উন্নতি প্রয়োজন। সিপিডির মতে, বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রেখে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
