বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ নিয়ে আয়োজিত গণভোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভোলা-৩ আসনের এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের মতে, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় গণভোট আয়োজন করা হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, গণভোটের এই ধারণাটি ঢাকার একটি বিশেষ ‘এলিট গোষ্ঠী’ সাধারণ জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক।
বিএনপি কেন ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেছিল, তার কারণ ব্যাখ্যা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিএনপি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত ছিল না। তবে দেশের নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সময়মতো জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতেই অনেকটা বাধ্য হয়ে দলটিকে এই সনদে সই করতে হয়েছে। বিএনপি মনে করেছিল, সই না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, এটি কেবল জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ। অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও যোগ করেন, গণভোটের প্রচারণার ধরণ জনগণের মধ্যে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে এবং এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য দেশ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
অনুষ্ঠানে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, আগামী দিনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী পরবর্তী পরিস্থিতিতে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
