সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে আলোচিত খলিলুর রহমান নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় দলটির ভেতরেই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলও এ নিয়ে সমালোচনা করেছে।
বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া তাদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে তার ভূমিকা নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি তাকে উপদেষ্টা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছিল বিএনপি।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ঠিক আগে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা।
তবে সব সমালোচনার পরও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে খলিলুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি “জোর করে” মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে “গুণে নেন আরেকবার”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদ নেতা তার মন্ত্রিসভায় কাকে নেবেন, সেটি তার এক্তিয়ার। তবু অতীতে সমালোচিত একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় জনমনে কৌতূহল ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়েও আগে বিতর্ক ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন বলে দাবি করলেও তার দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং গ্রিন কার্ড থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন মনে করেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে অভিজ্ঞ কূটনীতিক প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশল হিসেবেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খলিলুর রহমান বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর পররাষ্ট্রনীতির আলোকে সরকার এগোবে এবং সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে। তবে এ নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।







