জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে বিশ্ববাসীর কাছে গণহত্যার তথ্য গোপন করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন।
বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রসিকিউশন তাদের সূচনা বক্তব্যে জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আইসিটি মন্ত্রণালয় পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভেতরে চলা হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতার খবর যেন আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছাতে না পারে। এই পুরো প্রক্রিয়ার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, জয়ের নির্দেশ ও সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই জুনাইদ আহমেদ পলক প্রথমে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে দেশজুড়ে কমপ্লিট শাটডাউন বা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ নিশ্চিত করেন। এটি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের হামলা, নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করার পর পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোও ব্লক করে রাখা হয়েছিল যেন তথ্য আদান-প্রদান পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে পলকের নিজের দেওয়া কিছু পুরোনো ভিডিও বক্তব্যও বিচারককে শুনিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য গ্রহণ করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলার অন্যতম আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, অন্যদিকে জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
