নীলফামারীর ডোমারে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম কাজলের একটি বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভোগডাবুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির এই সভাপতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিএনপি গণভোট বা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট মানে না। তাঁর এই বক্তব্যে দলের ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কাজলকে বলতে শোনা যায়, নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগে বিএনপির পরাজয় ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন, বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও একটি বিশেষ মহলের চক্রান্তে তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, দলের ভেতরেও কিছু কৌশলগত দুর্বলতা ছিল।
মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই নেতা বলেন, ডোমার-ডিমলা আসনে তুহিন সাহেবের পরিবর্তে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দিকে মনোনয়ন দেওয়া স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সহজভাবে নিতে পারেননি। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই নীলফামারীতে বিএনপির এমন বিপর্যয় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাজল বলেন, যেসব ওয়ার্ডে জামায়াত আগে ৩০-৪০টি ভোট পেত, সেখানে এবার তারা হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছে। এই বিশাল পার্থক্যের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। একাত্তরের পরাজিত শক্তি কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এটি মেনে নেবে না।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি জানান, বৃহত্তর রংপুরে এই পরাজয় তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
সবশেষে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশজুড়ে গণভোটের যে দাবি বা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিএনপি তা সমর্থন করে না। এ বিষয়ে কোনো আন্দোলন এলে তা মোকাবিলা করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রিয়াজুল ইসলাম কালুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।







