মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায় দেওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে “লজ্জাজনক” (Disgrace) বলে অভিহিত করে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের কাছে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
আদালতের রায়ে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভর্নরদের সাথে বৈঠক চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের খবরটি একটি নোটের মাধ্যমে ট্রাম্পের হাতে পৌঁছায়। নোটটি পড়ার পর তিনি উচ্চস্বরে এটিকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন এবং এর কিছুক্ষণ পরেই কক্ষ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি আদালতের কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত। দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার মতো সাহস তাঁদের নেই।”
বিকল্প পরিকল্পনা ও কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি
ট্রাম্প দাবি করেছেন, আদালতের সম্ভাব্য প্রতিকূল রায় নিয়ে তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, “সামনে এগোনোর জন্য আমাদের কাছে বিকল্প প্ল্যান (Backup Plan) রয়েছে। আমরা এই লড়াই ছেড়ে দিচ্ছি না।” হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, আইনি লড়াই হারলেও শুল্ক আদায়ের অন্য কোনো আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে।
রাজস্ব সংক্রান্ত ট্রাম্পের ধারণা ও বাস্তবতা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা ছিল, সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ রাজস্বের (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি) কথা বিবেচনা করে আদালত হয়তো তাঁর শুল্ক নীতি বহাল রাখবে। তিনি মনে করেছিলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা আদালত এড়াতে চাইবে। কিন্তু তাঁর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে আদালত প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা প্রয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
আইনি যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার হুঁশিয়ারি
সংগৃহীত ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টি এত সহজে মিটে যাবে না। তাঁর মতে, “এই অর্থ ফেরত দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে আগামী অন্তত পাঁচ বছর আমাদের আদালতের চক্কর কাটতে হতে পারে।” এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সংগৃহীত রাজস্ব ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আটকে যেতে পারে।







