ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছে, যা কূটনীতির পথকে ক্রমশ সংকীর্ণ করে তুলছে। বর্তমানে এই পরিস্থিতি কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পর্তুগালের তেরসেইরা দ্বীপের লাজেস বিমানঘাঁটিতে সারি সারি মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি যেন আসন্ন ঝড়ের আগাম সংকেত। আটলান্টিকের আকাশে জমে থাকা মেঘের মতো থমথমে এই দৃশ্য তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের এক বাস্তব প্রতিফলন। শুধু লাজেস নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসংখ্যা ও সমরাস্ত্রের মজুদ হু হু করে বাড়ছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার জন্য সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিনের এক চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে তেহরানকে ‘করুণ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো হবে তাদের প্রথম লক্ষ্যবস্তু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন যে বিশাল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে, তা মূলত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলার লক্ষ্যেই সাজানো। একদিকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের চাপ, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের পারদ এখন তুঙ্গে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এই উত্তেজনায় চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, একবার যদি এই অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়, তবে তা কেবল ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। কূটনীতির দরজা এখনো সামান্য খোলা থাকলেও, যুদ্ধের শঙ্কা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল।
