সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, যদি বাংলাকে মায়ের ভাষা হিসেবে ধারণ করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলা চলবে না। মন্ত্রীর মতে, এই স্লোগানটি মূলত তাঁদের ভাষা যারা একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইনকিলাব’ কোনোভাবেই বাংলা ভাষা নয়। এমনকি বর্তমানে আলোচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ সংগঠনের সঙ্গেও বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশপ্রেমের খাতিরেই তিনি এই সমালোচনা করছেন এবং এ জন্য তাঁকে ‘ভারতের দালাল’ বলা হলেও তিনি পরোয়া করেন না।
বিদ্যুৎমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার একে ‘ভাষিক সাম্প্রদায়িকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ভাষার রূপতত্ত্ব অনুযায়ী ইনসাফ, জুলুম বা মজলুমের মতো শব্দগুলো এখন বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর মতে, ইনকিলাব হটাতে ইংরেজির (Don’t my language) আশ্রয় নেওয়াটা মন্ত্রীর ভাষাতাত্ত্বিক অজ্ঞতারই প্রমাণ।
তুষার আরও উল্লেখ করেন যে, বালতি, আলপিন বা আনারসের মতো পর্তুগিজ শব্দে কারও আপত্তি না থাকলেও শুধু উর্দু-ফারসিজাত শব্দের ক্ষেত্রেই ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়া হয়। এর পেছনে এক ধরণের ইসলামবিদ্বেষ কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতীয় দর্শনশাস্ত্রের শব্দ ‘মীমাংসা’ যদি বাংলা হতে পারে, তবে ‘ফয়সালা’ কেন ব্রাত্য থাকবে?
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলমও। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে, ইনসাফ, ইনকিলাব বা জিন্দাবাদ—সবগুলোই এখন সুন্দর বাংলা শব্দ। মন্ত্রীর এই অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাষা ও সংস্কৃতির শুদ্ধতা নিয়ে নতুন করে তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।







