রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলাম (৩৫) নামে এক লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত সংলগ্ন সুফিয়া গার্মেন্টসের পাশে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “চাঁদা না দেওয়াকে এখন অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি।” তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেমিক জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে চাঁদাবাজদের মোকাবিলা করা হবে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরে আলম আগে মাছের ফিডের ব্যবসা করতেন। পরিবার চালানোর তাগিদে মাত্র দেড় মাস আগে তিনি লেগুনা চালানো শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, ‘হৃদয়’ নামের এক চালক খায়রুলের কাছে চাঁদা দাবি করেন। শুক্রবার দুপুরে চিটাগাং রোড স্ট্যান্ডে সিরিয়াল ছাড়া যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিকেলে ১০-১২ জন মিলে খায়রুলকে বেধড়ক মারধর করে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই রুটে লেগুনা চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন সাধারণ চালকরা। নিহতের বাবা মোয়াল্লেম সরদার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। খায়রুলের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দিশেহারা তাঁর পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ী ও চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে মাসিক ও দৈনিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। তবে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু চাঁদাবাজির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করে বলেন, পূর্বশত্রুতা ও ঝগড়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







