জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোমিন ইসলাম নামে এক কৃষকের ক্ষেত থেকে জোরপূর্বক সরিষা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামের মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মোমিন ইসলামের দাবি, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে তাঁর ছোট চাচা আফছার আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত শনিবার চাচার মেয়ে জামাই মেহেদী মাছুম জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়াসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে মোমিনের জমিতে আসেন। তাঁরা ভয়ভীতি দেখিয়ে মোমিনের চাষ করা আধপাকা সরিষা কেটে নিয়ে যান। বাধা দিতে গেলে মোমিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মেহেদী মাছুমের বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা সরিষা উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদী মাছুম সরিষা কাটার বিষয়টি স্বীকার করলেও তাঁর দাবি, ওই জমি তাঁর শ্বশুরের এবং মোমিন ইসলাম তা জোরপূর্বক দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। তাই তাঁরা নিজেদের ‘ন্যায্য ভূমি’র ফসল সংগ্রহ করেছেন।
তবে প্রধান অভিযুক্ত জেলা যুবদল সদস্য ফিতা মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কেবল দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় মীমাংসার কথা বলেছিলেন, সরিষা কাটার সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত সরিষা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







