রাজধানীসহ সারা দেশে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই বিশাল অংকের টাকার ভাগ যাচ্ছে পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের পকেটে।
পরিবহন খাতের এই চাঁদাবাজি নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এক বক্তব্যে একে ‘অলিখিত বিধির মতো’ উল্লেখ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। যদিও মন্ত্রী পরে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জোরপূর্বক চাঁদাবাজিকে সমর্থন করেন না এবং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের সিটি বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা—সবই এই চক্রের শিকার। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় হয় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ আয় হয়। এই অতিরিক্ত খরচের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণের ওপর, ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও যাতায়াত ভাড়া আকাশছোঁয়া হয়ে উঠছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় করা এই অর্থের ৯০ শতাংশই চালকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে গাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের শিকার হতে হয় শ্রমিকদের। শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের এক শ্রেণির নেতারা এই বিপুল অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির মতে, ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা পদ্ধতি চালু করলে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব। অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি করলেও সাধারণ মালিক ও শ্রমিকদের দাবি—সরকার পরিবর্তন হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই ‘চাঁদা সংস্কৃতি’ এখনো অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।







