ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তজনা এখন তুঙ্গে। ইরানের সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সমরাস্ত্র, রণতরী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করলেও তেহরান নতি স্বীকার না করায় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
উইটকফ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কৌতূহলী যে কেন ইরান এতো চাপের মুখেও পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমি আত্মসমর্পণ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করতে চাই না, তবে ট্রাম্প ভাবছেন কেন তারা এখনো আলোচনার টেবিলে এসে বলছে না যে—আমরা অস্ত্র চাই না। তাদের এই অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”
ইরানকে চাপে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেশও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন পাল্টা আঘাত হানবে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো—ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তারা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু শর্ত মানতে রাজি থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করবে না।
বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন, যা বেসামরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির বিপরীতে ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।
