লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে চলে গেছে। আরব ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর ঐতিহ্যবাহী লেবানিজ নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন আইআরজিসি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে গ্রুপটি পরিচালনা করছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের প্রস্তুত করতে সম্প্রতি আইআরজিসির একদল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইরান থেকে লেবাননে পৌঁছেছেন। তারা লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরাসরি ব্রিফিং দিচ্ছেন এবং গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কাজ করছেন।
বিশেষ করে লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে আইআরজিসি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক করার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে এই বেকা উপত্যকাতেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন। ইসরায়েলের দাবি, তারা হামাস ও হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
এই কৌশলগত পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে হিজবুল্লাহ তাদের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলে একযোগে পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হিজবুল্লাহর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও এই সম্ভাব্য সংঘাতের অংশ হতে পারে। বর্তমানে লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়াকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
