নড়াইলের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এই সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ উভয় পক্ষের মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের খলিলুর রহমান ও তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন এবং একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া এবং সংঘর্ষে আহত আরও একজন মারা গেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লা এবং বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় নেতা খলিল মোল্লার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর খায়ের মোল্লা ও তাঁর অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন। সম্প্রতি তাঁরা এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে খলিল গ্রুপের সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা সোমবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসিবুরকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।







