জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসনামলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে করা ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে। গত বছরের জুনে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, মোট ৯৭৭টি স্থাপনার মধ্যে অধিকাংশেরই নাম ইতিমধ্যে বদলে ফেলা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নাম পরিবর্তন করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যার সংখ্যা ২০৫টি। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৮১টি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেনানিবাস, নৌজাহাজ, স্টেডিয়াম, সেতু এবং টানেলসহ ২৯ ধরনের স্থাপনা রয়েছে।
পরিবর্তিত উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম: অধ্যাদেশ ও সরকারি আদেশের মাধ্যমে বেশ কিছু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন—
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় (পূর্বনাম: শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়)
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (পূর্বনাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (পূর্বনাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি)
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পূর্বনাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি (পূর্বনাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি)
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের পরিবর্তন: দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও বদলেছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BSMMU) নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া খুলনা ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে শেখ হাসিনা ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট ৩৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও শিক্ষা ভবনের নাম পরিবর্তন: ঢাকার আইকনিক ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম’ এখন থেকে জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা নামে পরিচিত হবে। এছাড়া শেখ জামাল জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সের নাম বদলে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে; যেমন ঢাকা কলেজের শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের নাম এখন জুলাই ৩৬ একাডেমিক ভবন এবং তিতুমীর কলেজের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের নাম নতুন বিজ্ঞান ভবন করা হয়েছে।
অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে ১১টি নৌজাহাজ, ৯টি সেনানিবাস, ১৫টি গ্রন্থাগার এবং ৩৫টি ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যাসিবাদের প্রতীক ও একটি পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য মুছে ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।







