ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে ভারত সরকার। সোমবার এক বিশেষ নির্দেশনায় নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ইরানে থাকা ভারতীয়রা যেন বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা অন্য যে কোনো উপায়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকেও নাগরিকদের জন্য একই ধরনের উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। দেশটির চলমান পরিস্থিতির যে দ্রুত অবনতি ঘটছে, তাতে এই বিশাল সংখ্যক নাগরিক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে দিল্লি। নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ভারত সরকার এই আগাম সতর্কতা ও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গেল বছরের ২৮ ডিসেম্বর। শুরুতে কেবল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা দেশটির বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনির পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা দেশটিকে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতে পুরো অঞ্চলটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডসহ শক্তিশালী সব সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমন একটি জটিল ও সংঘাতময় মুহূর্তে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং দ্রুত ইরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে আসতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
