শপথ গ্রহণের পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গেছেন। স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানাচ্ছেন দলটির এমপিরা। এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরব ভূমিকা পালন করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শপথের আগেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকায় গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন; শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তারা।
সূত্র জানায়, রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান শপথের পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি নিজ হাতে সড়ক পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরু করেন। মিরপুর-কাফরুলকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেন। শপথের আগেও তিনি নির্বাচনি ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণে নেতৃত্ব দেন।
ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর নিজ এলাকায় গিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় কোনো আপস নয়; ঢাকা-৫-কে শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন তা-ই করা হবে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান জানান, তার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মাওলানা আবু তালিব শপথের পরপরই এলাকায় ফিরে জনবান্ধব পদক্ষেপ নেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন। সড়কে ভ্যান-রিকশা থেকে অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নেও কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আজম মো. আবু বকর হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে সব ধরনের যানবাহন থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অটোরিকশা থেকে অযৌক্তিক টোল আদায়, অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক বিস্তার ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান ফল মিলবে।
বাগেরহাট-2 আসনের এমপি শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ শহরকে আবর্জনামুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ কামনা করেন।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। রোগীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত ৬৮ জন সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে পর্যায়ক্রমে এসব কার্যক্রমের গতি আরও বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
