কেরানীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বর্তমান সময়ের দুর্নীতি ও মাদক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, সমাজে দুর্নীতি এখন ‘ঈদের বকশিশের’ মতো একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে হলে দুর্নীতির এই বিশাল পাহাড় উপড়ে ফেলা জরুরি। তা না হলে দেশের আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাতারাতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা কঠিন। তাই কৌশল হিসেবে প্রথমে দুর্নীতিকে একটি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে এনে ধাপে ধাপে কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে তা শূন্যের কোঠায় আনার পরামর্শ দেন তিনি।
মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি দিকনির্দেশনাও দেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ফাঁড়ির আশপাশেই মাদকের আখড়া গড়ে ওঠে। মাদক নির্মূল করতে হলে আগে পুলিশের অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টদের কেবল জেলহাজতে না পাঠিয়ে, তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানসিক পরিবর্তনের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ওপরও জোর দেন তিনি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষাংশে বক্তারা প্রত্যেকেই একটি মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







