কুমিল্লা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, যেসব নেতাকর্মীর স্ত্রী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়েছেন, তাঁদের যেন তালাক দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে এক জনসভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “যে বউ স্বামীর কথা শোনে না, স্বামীকে মানে না, এমন বউকে তালাক দিয়ে দে।” তিনি অভিযোগ করেন, অনেক নেতাকর্মী অজুহাত দিচ্ছেন যে তাঁদের স্ত্রীরা আগেই অন্য কাউকে কথা দিয়ে ফেলেছিলেন, যা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
বক্তব্যে তিনি দলের ভেতরকার ‘মোনাফিকদের’ কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অনেকে বিএনপি করলেও গোপনে জামায়াতকে ভোট ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অনেক নেতার পরিবার ধানের শীষের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচিত এই এমপি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের সময় যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন ঢাকায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে। এসব ‘হাইব্রিড’ নেতাদের তিনি ‘চিটিং’ বলে সম্বোধন করেন এবং জানান যে তাঁর কাছে পাত্তা না পেয়ে তারা এখন তাঁর নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
