বর্তমান সময়ে কফিশপ, শপিংমল বা বিমানবন্দরের মতো পাবলিক প্লেসে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে এই বাড়তি সুবিধা কখনও কখনও ব্যবহারকারীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উন্মুক্ত ওয়াইফাই ব্যবহার করে হ্যাকাররা সহজেই ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং ব্যাংকিং ডেটা হাতিয়ে নিতে পারে।
উন্মুক্ত ওয়াইফাই কেন ঝুঁকিপূর্ণ? পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত এনক্রিপ্টেড থাকে না, ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কেউ আপনার অনলাইন কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করতে পারে। অনেক সময় সাইবার অপরাধীরা ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ আক্রমণের মাধ্যমে আপনার ডিভাইস ও ইন্টারনেটের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে তথ্যের আদান-প্রদান পর্যবেক্ষণ করে। এমনকি হ্যাকাররা অনেক সময় পরিচিত নামের ছদ্মবেশে ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলে।
কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? অসতর্কভাবে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাংকিং অ্যাপের লগইন তথ্য চুরি হতে পারে। এছাড়া হ্যাকাররা ডিভাইসে অজান্তেই ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য নজরদারি এবং বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি করার সুযোগ পায়।
নিরাপদ থাকার উপায় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক নেটওয়ার্কে থাকাকালীন অনলাইন ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলা উচিত। নিরাপত্তার জন্য ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করা এবং ব্রাউজ করার সময় ওয়েবসাইটটি ‘HTTPS’ কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ডিভাইসের অটো-কানেক্ট অপশন এবং ফাইল শেয়ারিং বন্ধ রাখা নিরাপদ থাকার অন্যতম উপায়।
বিকল্প ব্যবস্থা ও সতর্কতা সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হলো নিজের মোবাইল ডেটা বা ব্যক্তিগত হটস্পট ব্যবহার করা। যদি একান্তই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হয়, তবে কাজ শেষে দ্রুত লগআউট করা এবং সব অ্যাকাউন্টে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখা প্রয়োজন। সামান্য সচেতনতাই আপনার মূল্যবান ডিজিটাল সম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
