বাংলাদেশে নীরবে বিস্তার লাভ করছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি—কিডনি রোগ। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এটি শুধু একটি চিকিৎসাজনিত সমস্যা নয়; বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও বটে। কিডনি বিকল হলে চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি হয় যে অনেক পরিবার অল্প সময়েই আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ অধিকাংশ মানুষ এখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন।
কিডনির কাজ ও প্রাথমিক সমস্যা
মানবদেহে দুটি কিডনি রক্ত পরিশোধনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। প্রতিদিন রক্ত থেকে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম ইউরিয়া তৈরি হয়, যা নির্গমনের জন্য কমপক্ষে ৭৫০ মিলিলিটার প্রস্রাব প্রয়োজন।
মানবদেহে দুটি কিডনি রক্ত পরিশোধনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। প্রতিদিন রক্ত থেকে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম ইউরিয়া তৈরি হয়, যা নির্গমনের জন্য কমপক্ষে ৭৫০ মিলিলিটার প্রস্রাব প্রয়োজন।
কিডনিতে প্রদাহ, সংক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং শরীরে বর্জ্য জমতে থাকে। ধীরে ধীরে তা ক্রনিক কিডনি রোগে রূপ নেয়। মূত্রতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, মূত্রথলি ও মূত্রনালি। প্রতিটি কিডনির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪-৫ ইঞ্চি; ডান কিডনি সাধারণত কিছুটা নিচে অবস্থান করে।
কিডনি রোগের ধরন
কিডনি রোগের ধরন
কিডনি রোগ প্রধানত তিন ধরনের—
হঠাৎ কিডনি বিকল (Acute Kidney Injury)
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease – CKD)
সংক্রমণ ও জটিলতা যেমন পাইলোনেফ্রাইটিস, কিডনির পাথর বা প্রোটিনজনিত সমস্যা
লক্ষণ ও শনাক্তকরণ
প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে কিছু সতর্ক সংকেত রয়েছে,
ঘন ঘন প্রস্রাব বা হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া
মুখমণ্ডল ও পায়ে ফোলা
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি
প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন বা রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ
সময়ে এসব লক্ষণ শনাক্ত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হঠাৎ কিডনি বিকল (Acute Kidney Injury)
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease – CKD)
সংক্রমণ ও জটিলতা যেমন পাইলোনেফ্রাইটিস, কিডনির পাথর বা প্রোটিনজনিত সমস্যা
লক্ষণ ও শনাক্তকরণ
প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে কিছু সতর্ক সংকেত রয়েছে,
ঘন ঘন প্রস্রাব বা হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া
মুখমণ্ডল ও পায়ে ফোলা
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি
প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন বা রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ
সময়ে এসব লক্ষণ শনাক্ত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিত্র
স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় আক্রান্ত। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচজন কিডনি রোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগী কিডনি প্রায় বিকল হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যান। তখন একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায় ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন।
প্রধান কারণ
ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তচাপ
অতিরিক্ত লবণ ও ফাস্টফুড গ্রহণ
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
জটিলতা
কিডনি বিকল হলে দেখা দিতে পারে—
শরীরে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি
আজীবন ডায়ালাইসিস নির্ভরতা
মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট
ডায়ালাইসিস কিডনির কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে; এটি স্থায়ী সমাধান নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প থাকে না।
স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় আক্রান্ত। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচজন কিডনি রোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগী কিডনি প্রায় বিকল হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যান। তখন একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায় ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন।
প্রধান কারণ
ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তচাপ
অতিরিক্ত লবণ ও ফাস্টফুড গ্রহণ
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
জটিলতা
কিডনি বিকল হলে দেখা দিতে পারে—
শরীরে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি
আজীবন ডায়ালাইসিস নির্ভরতা
মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট
ডায়ালাইসিস কিডনির কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে; এটি স্থায়ী সমাধান নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প থাকে না।
কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়
১. বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা
২. ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
৩. ধূমপান ও মাদক পরিহার
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন না করা
৫. প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান
৬. প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমল পানীয় সীমিত করা
৭. পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আগাম সতর্কতা নেওয়া
১. বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা
২. ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
৩. ধূমপান ও মাদক পরিহার
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন না করা
৫. প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান
৬. প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমল পানীয় সীমিত করা
৭. পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আগাম সতর্কতা নেওয়া
উপসংহার
কিডনি রোগ মানেই ডায়ালাইসিস নয়। সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত পরীক্ষা—এই তিনটি পদক্ষেপই কিডনি সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখা যায়। তাই কিডনি রোগকে অবহেলা না করে সময়মতো সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ই-মেইল: drmazed96@gmail.com
কিডনি রোগ মানেই ডায়ালাইসিস নয়। সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত পরীক্ষা—এই তিনটি পদক্ষেপই কিডনি সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখা যায়। তাই কিডনি রোগকে অবহেলা না করে সময়মতো সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ই-মেইল: drmazed96@gmail.com
