জেদ্দা, শুক্রবার: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও গাম্বিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ফিলিস্তিনবিষয়ক জরুরি অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব দেশের প্রতিনিধিরা এ সমর্থনের আশ্বাস দেন। বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওআইসির জরুরি বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ওআইসি প্রতিনিধিদলের নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ব্যাপক বিজয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের প্রশংসা করেন তারা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফরের প্রত্যাশায় রয়েছেন। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী দিনে বিভিন্ন খাতে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। দুই দেশ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করে। খলিলুর রহমান পবিত্র রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিকেনের জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও সৌদি আরবের বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। উভয় পক্ষ এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এলখেরেজি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনি মন্ত্রী বাংলাদেশের দৃঢ় ও ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রশ্নে ফিলিস্তিন প্রার্থী না হলেও বাংলাদেশ নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবি সমুন্নত রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন খলিলুর রহমান। ফিলিস্তিনি মন্ত্রী জানান, আরব-ইসলামিক দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাওয়ের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে গাম্বিয়ার ধারাবাহিক ও সক্রিয় সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান খলিলুর রহমান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলায় গাম্বিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। উভয় পক্ষ আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সমর্থন আদায়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।







