আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওসিন্ট (OSINT)-এর ইউরোপ শাখা। শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
ওসিন্ট ইউরোপের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জোরালো হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আখুন্দজাদা দেশটির শাসনব্যবস্থার মূল নীতি নির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরে সক্রিয় টিটিপি জঙ্গিদের নির্মূলে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। ওই অভিযানে প্রায় ৮০ জন নিহত হন। এর ‘বদলা’ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোতে বড় ধরনের অতর্কিত হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী।
আফগান বাহিনীর এই হামলায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং কয়েকজন বন্দি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার সময় তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বার্তায় জানিয়েছিলেন, তাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
ডুরান্ড লাইনে আফগান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাত পৌনে ৪টার দিকে পাল্টা আঘাত হিসেবে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। অভিযান শুরুর পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক কঠোর বার্তায় বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন কেবল যুদ্ধ হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাক-আফগান সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নিহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিবাদ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







