বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুকৌশলে তাঁদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, অনেক আসনে ১০ থেকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাঁদের প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এখন তাঁদের বলছে— আপনারা হারেননি, বরং আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে তিনি তিনটি প্রাপ্তির কথা জানান। প্রথমত, এবারই প্রথম জামায়াতের নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাঁদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দিয়েছেন। আর তৃতীয়ত, জামায়াত এবার সরাসরি ‘ছয়টি শক্তি’র বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে।
নির্বাচনে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ছয় শক্তি জামায়াতের সঙ্গে লড়াই করে পারত না যদি না তারা ‘অন্য কিছুর’ আশ্রয় নিত। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের এই অস্বচ্ছতার কথা এখন কেবল জামায়াত নয়, বরং টিআইবি ও সুজনসহ বিভিন্ন সংস্থাও বলতে শুরু করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আগামীতে লড়ার জন্য এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার বস্তিগুলোতে বড় বড় প্রতিশ্রুতি ও ভয়ভীতি কাজ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। তাঁর মতে, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামী ও মুক্তিপাগল মানুষের বাংলাদেশ। জামায়াতকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সবশেষে দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন জামায়াত আমির। তিনি একে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি জায়গায় যোগ্য ও ভালো মানুষদের তুলে আনতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে নেতাকর্মীদের অনেক বেশি ত্যাগী ও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
