গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশে তাদের স্থল, নৌ ও বিমান ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটি পরিচালিত হয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা United States Central Command (সেন্টকম)-এর অধীনে।
নিচে মধ্যপ্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
কাতার
কাতার-এর আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি পুরো অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি। এখানে সেন্টকম ও মার্কিন বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার অবস্থিত। ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এখানে মোতায়েন রয়েছে।
বাহরাইন
বাহরাইন-এ মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে পরিচিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে নৌ কার্যক্রম পরিচালনায় এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা এখানে অবস্থান করছে।
কুয়েত
কুয়েত-এ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি রয়েছে। ক্যাম্প আরিফজান ও আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো আঞ্চলিক অপারেশন ও লজিস্টিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখানে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে, যা গোয়েন্দা নজরদারি ও কমব্যাট এয়ার অপারেশন পরিচালনা করে।
ইরাক
ইরাক-এ বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আল আসাদ ও ইরবিল বিমান ঘাঁটি থেকে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে। অতীতে সাদ্দাম হোসেনের পতনের সময় দেশটিতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
সিরিয়া
সিরিয়া-এ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি মূলত ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশজুড়ে বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যারা স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অন্যান্য দেশ
এছাড়া সৌদি আরব, মিশর, ইসরায়েল ও জর্ডান-এও মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে বলে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।
মোট মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মার্কিন নাগরিক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
