বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগকে ‘ভয়াবহ ভুল’ (Terrible blunder) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই নিয়োগকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাংকের মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন।
ডেভিড বার্গম্যান তাঁর পোস্টে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে একজন শিল্পপতিকে নিয়োগ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, এমন একজনকে বেছে নেওয়া যার নিজেরই পুনঃতফসিলকৃত ঋণ রয়েছে। তৃতীয়ত, নবনিযুক্ত এই গভর্নর সদ্য ক্ষমতাশীন দলের নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাকুর রহমানের মালিকানাধীন ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড’-এর ৮৯ কোটি টাকার (প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার) খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বরেই মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পুনঃতফসিল করেছে। দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বার্গম্যান প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ঋণগ্রহীতা কীভাবে সেই ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক হতে পারেন।
এর আগে, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। বুধবার সকালে ড. মনসুর অফিসে পৌঁছালে একদল বিক্ষোভকারীর (মব) মুখে পড়ে ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই পরিস্থিতির শিকার হন গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহও। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরই নতুন গভর্নরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পেশায় হিসাববিদ (এফসিএমএ) মোস্তাকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের পরিবেশবান্ধব কারখানা হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতিমালার আওতায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়টি নিয়ে এখন দেশি-বিদেশি মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বার্গম্যানের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেশাদারিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেল।







