ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালীন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলা পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং সম্ভাব্য বড় কোনো হামলা নস্যাৎ করতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়, যাতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য কোনো আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা অবশিষ্ট না থাকে।
এই নজিরবিহীন হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আকস্মিক মৃত্যু দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোতে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে যা তেহরানকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে ইরান এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইতোমধ্যে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান কয়েকশ ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযান যে একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই হামলার পর ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হলেও এই মুহূর্তের নেতৃত্বশূন্যতা সামাল দেওয়া দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখন কোন দিকে ধাবিত হয়, সেদিকেই নজর রাখছে সারা বিশ্ব।
