ঢাকা,২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ রাত ৯টা ৫০ মিনিট। শহরের বেইলি রোডে,বহুতল গ্রিন কোজি ভবনের ভিতরে আচমকাই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বহুতল ভবনের প্রতিটি তলায় রেস্তোরাঁ ও দোকান ছিল কাচ্চি ভাই, স্যামসাং শোরুম, গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার, ইলিয়িন, খানাস, পিৎজা ইন সহ অনেক নামই আগুনের শিকার হয়। ঘরে ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সব মিলিয়ে আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনকে গ্রাস করে।
ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ৪৬ জনের প্রাণ নিঃশেষ হয়েছে। আহত ৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৪২ জন অচেতন অবস্থায়।
পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে অন্ধকার। অনেকেই খবর পেয়ে ছুটে আসে, কিন্তু কেউই নিজের প্রিয়জনকে বাঁচাতে পারেনি। মৃতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী, ৮ জন শিশু। শিশুদের মা-বাবারা, ভাইবোনরা সবাই শোকস্তব্ধ। মৃত্যুর কারণ ছিল পোড়ার চিহ্ন নয়, বরং প্রচণ্ড ধোঁয়া ও বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ। উদ্ধার হওয়া আহতরা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট কালো ধোঁয়ার মধ্যে আটকা ছিলেন, যার বিষাক্ততা তাদের প্রাণকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক মো. মাইন উদ্দিন জানান, ঘটনার আগে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তিনবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভবনটির বাণিজ্যিক অনুমোদন ছিল সাত তলা পর্যন্ত, তবে রেস্তোরাঁ বা শোরুম চালানোর কোনো অনুমতি ছিল না।
এ মুহূর্তে হাসপাতালগুলোও ভিড় করছে আহতদের জন্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন, পুলিশ হাসপাতালে ১ জন মারা যান। আহতদের মধ্যে আরও ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি ভবন নয়, এটা হয়েছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও জীবনের উপর একটি ছায়া। অন্ধকার ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়া মানুষদের চিৎকার, সাহায্যের আহ্বান সবাইকে অচেতন অবস্থায় ছুঁড়ে ফেলে।
স্মৃতির পাতায় বেইলি রোডের রাতটি চিরকালই থাকবে এক অমলিন দাগ হিসেবে। ক্ষতগুলো শুধু শরীরের নয়, বরং আমাদের মন ও সমাজেরও। শহরটি শোকাহত, পরিবারগুলো বিধ্বস্ত, আর আমরা সবাই স্মরণ করব তাদের যাদের জীবন নিঃশেষ হয়েছে, শুধুমাত্র একটি রেস্তোরাঁর বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে।







