বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এ আবাসিক হলে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পুনর্বাসনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতের দিকে হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে উঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাকৃবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এ প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেন এবং সংশ্লিষ্টদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তোলেন। এ সময় ছাত্রদলের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টকে বিষয়টি জানান। তার অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে যায়। তাদের গাড়িতে করে অভিযুক্ত তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়; বাকি দুজন এর আগেই হল ত্যাগ করেন।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে হল থেকে সরানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন হল প্রভোস্ট।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক বলেন, যাদের হলে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে তার বা তার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের ক্যাম্পাসে জায়গা হওয়া উচিত নয় এবং ছাত্রলীগ পুনর্বাসন বা এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তিনি চান না। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর গেস্টরুম সংস্কৃতি ও র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের হলে না তোলার যে সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়েছেন, তা বহাল রয়েছে। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।







