ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক চরম ও নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। ভোরে ইরানের পক্ষ থেকে খামেনির মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পরপরই দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই নতুন অভিযানকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ’ এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইসরায়েলের ‘দখলকৃত এলাকা’ এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’গুলোকে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহিনী এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো মুহূর্তে আকাশপথে বড় ধরনের হামলা শুরু হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
শনিবার রাতে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার পর থেকেই খামেনির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছিল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই তাঁর মৃত্যুর দাবি করেছিলেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনিকে ‘নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যুকে একটি যুগের অবসান বলে উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার নিরবতা ও ধোঁয়াশা কাটিয়ে সোমবার ভোরে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয় যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর বেঁচে নেই। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করার পরপরই তেহরানজুড়ে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রতিশোধমূলক হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ও সরাসরি মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।







