বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক আস্থা, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা।
শামা ওবায়েদ দাবি করেন, একক কোনো দেশের প্রতি এই সরকারের বিশেষ কোনো নির্ভরতা বা দুর্বলতা নেই। কোনো বিশেষ দেশের প্রতি সরকার ঝুঁকছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই নীতিতে সরকার অটল। মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সকল দেশের সাথে প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে এবং অর্থনীতি ও সমাজনীতি সেভাবেই সাজানো হবে।
বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, এখন থেকে বিদেশিদের সাথে যেকোনো চুক্তি করার আগে তা জাতীয় সংসদে আলোচনা করা হবে। সংসদকে সব সিদ্ধান্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কার্যকর করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তির ভবিষ্যৎও সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোকে এই সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। বিনিয়োগকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, এই সমস্যার টেকসই সমাধান সহজ নয়। তবে তাঁর সরকার এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে এই সমস্যার সমাধানে সরকার জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।







