যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ স্থানীয় প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরির উদ্ধৃতি দিয়ে এই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের নিকটবর্তী মিনাব জেলায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ‘শাজারেহ তাইয়্যেবা’ নামক ওই বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে হামলার সময় প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে স্কুল ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা এখন কেবল একটি মৃত্যুপুরী।
স্থানীয় প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি জানান, হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৫৯ জনে পৌঁছেছে এবং আরও অন্তত ৯৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশে ইরানের বেশ কিছু নৌঘাঁটি অবস্থিত। ওই বালিকা বিদ্যালয়টি একটি আইআরজিসি (IRGC) সামরিক কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সেটি মার্কিন-ইসরায়েলি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। গত দুদিন ধরে চলা এই অভিযানে বেসামরিক স্থাপনা ও শিশুদের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা বিশ্বজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর ইরানজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শত শত নিরপরাধ শিশুর প্রাণহানির এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক শিশুর নিথর দেহ উদ্ধারের দৃশ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিবেক নাড়া দিয়েছে।
