যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে খামেনির নিজস্ব বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো বিধ্বংসী বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই হামলায় খামেনি ছাড়াও দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এদিকে, হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা যায়।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘তেহরানঞ্জেলেস’ খ্যাত এলাকায় শত শত ইরানি-আমেরিকান রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করেন। তাদের হাতে ইসলামি বিপ্লবের আগের অর্থাৎ শাহ আমলের ইরানি পতাকা দেখা যায়। অনেককে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে এবং ‘ইরান মুক্ত’ হওয়ার স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।







